Header Ads

  • সর্বশেষ আপডেট

    কৈফিয়ত: হেয় বা কারো মনে আঘাত দেবার জন্য নয়

    কৈফিয়তঃ এই পোস্টটি কাউকে খাটো, হেয় বা কারো মনে আঘাত দেবার জন্য নয়। তারপর ও যদি কারো অনুভূতিকে আহত করে তবে আমি অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।

    প্রশ্ন হচ্ছে শ্রী রাম কৃষ্ণ হিন্দু নাকি মুসলমান ছিলেন ? এর জবাব খুজবো ধর্মীয় রীতিনীতি, তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে। ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন প্রতিটি মানুষ আমার সাথে একমত হবেন বলেই আশা রাখি ***

    ১/শ্রী রামকৃষ্ণ হিন্দু নাকি মুসলমান ছিলেন? প্রশ্নটা শুনেই মনে হচ্ছে প্রশ্নটাই অবান্তর। কেন এই প্রশ্ন, এবং এই প্রশ্নের উত্তর কি হবে বিস্তারিত জানতে লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ুন ।

    ২/ শ্রী রামকৃষ্ণের 'যত মত তত পথ” এই বানীটির সঙ্গে প্রায় সবাই পরিচিত আছেন। তিনি কি শুধুই কথার কথা বলেছেন নাকী সত্যিই রামকৃষ্ণ পরমহংস নিজের জীবনে এটা প্রয়ােগ করেছেন দেখে নেই। হ্যা, শ্রী রামকৃষ্ণ যত মত তত পথ এই বাক্যটি নিজের জীবনেও প্রয়ােগ করেছেন বার বার। তিনি কিছুদিন গির্জায় গিয়ে খ্রিষ্টধর্মের সাধনা করেছেন তবে দীক্ষিত হন। নান ভৈরবীর কাছে তন্ত্র সাধনা করেছেন এবং তােতাপুরির কাছে নিরাকারের সাধনা করেছেন।

    ৩/ সেই সময়ে গােবিন্দ রায় নামে সুফিপন্থী ইসলাম দরবেশ দক্ষিণেশ্বরে আসেন। কেননা সেই সময়ে বিভিন্ন ধর্মের লােক নিরালায় সাধনা করতে দক্ষিণেশ্বরে উপস্থিত হতেন। কেননা দক্ষিণেশ্বর ছিল সাধন ভজনের জন্য উপযুক্ত স্থান। এখানে খাওয়া থাকার কোন সমস্যা হতাে না, এবং স্থানটি ছিল নিরিবিলি। যাই হােক শ্রী রামকৃষ্ণ এই সুফিপন্থী মুসলমান দরবেশের দীক্ষা নিয়ে ইসলাম ধর্ম সাধনা করেছিলেন। আর বলাই বাহুল্য যে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা ছাড়া ইসলামের সাধনা সম্ভব নয়।

    ৪/ তথ্য ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তির সম্বন্ধে কোন কথা বলা একেবারেই উচিত নয়, আর সে যদি হয় ধর্ম গুরু তবেতাে কথাই নাই, মুন্ডুপাতের ভয়ও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।

    তাই এই বিষয়ে তথ্যসূত্রগুলি তুলে ধরছিঃ

    ১/ লীলাপ্রসঙ্গ, পৃষ্ঠা-৩১০

    লিলামৃত পৃঃ-৭১,

    শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ চরিত- গুরুদাস বর্মন, পৃঃ-৮০,

    জীবন বৃতান্ত-রামচন্দ্র দত্ত পৃঃ-৫৪,

    রামকৃষ্ণ পুথি পৃঃ-১১৯,

    এখন হয়তাে আপনি বিশ্বাস করবেন ঘটনা মিথ্যা নয়।

    ৫/ এবার আসি যুক্তি বিচারে, আচ্ছা কেউ যদি হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হন তবে নিশ্চয়ই হিন্দু ধর্মের নিয়ম নিতি ত্যাগ করে মুসলমান ধর্মের নিয়ম নীতিগুলি পালন করেই দীক্ষিত হয়েছিলেন তাই না! তিনি হিন্দু ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম নিলেও মুসলমান ধর্মে দীক্ষা নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু ও ব্রাহ্মণ নিশ্চয়ই থাকেন না। মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একজন মুসলমান এটাই তার ধর্মিয় পরিচয়।

    যদিও তিনি একসময় আবার মন্দিরে চলে আসেন এবং মুর্তি পূজারি হিশেবেই কাজ করতে থাকেন। তাতে তিনি মুসলমান ধর্ম মতে মুরতাদ হতে পারেন কিন্তু হিন্দু হতে পারেন না। চলুন ধর্মান্তরিত হওয়া কেউ যদি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে চায় তবে তার কি নিয়ম নিতি পালন করতে হয় দেখে নেই। যদিও হিন্দু শাস্ত্রে এই বিষয়ে কোন নিয়ম নাই, মানে হিন্দু থেকে অন্য ধর্মে দীক্ষিত হওয়া যায় কিন্তু অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু হওয়া যায় না। তবুও কিছু ধর্মগুরু হিন্দু ধর্ম রক্ষা করার জন্য কিছু নিয়ম নীতি বানিয়েছিলেন, কি সেই নীতি দেখে নেই;-

    ৬/ স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন—“যাহারা ইচ্ছাপূর্বক ধর্মান্তর গ্রহন করেছিলেন, কিন্তু এখন হিন্দু সমাজে ফিরিয়া আসিতে চান,তাদের পক্ষে প্রায়চিত্ত ক্রিয়া আবশ্যক, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। (বানী ও রচনা,নবম খন্ড, পৃষ্ঠা-৪৮৪)

    শ্রী রামকৃষ্ণ নিজের ইচ্ছাতেই ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন, তাকে পুনরায় হিন্দু হতে গেলে অবশ্যই প্রায়চিত্ত করতে হতাে। শ্রী রামকৃষ্ণ কখনাে প্রায়চিত্ত করেছেন বলে কোথাও উল্লেখ নাই তাই তিনি নিশ্চয়ই একজন মুরতাদ মুসলমান।

    ৭/ “শ্রী মা সারদাদেবী” গ্রন্থে স্বামী গম্ভিরানন্দ লিখেছেন
    -কোঠারের পােষ্ট মাস্টার দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ঘটনাক্রমে যৌবনে খ্রিষ্টধর্ম অবলম্বন করিয়াছিলেন।অধুনা তিনি বিশেষ অনুতপ্ত ও স্বধর্মে ফিরিয়া আসিতে বিশেষ ব্যাগ্র হইয়া সকলের নিকট পরামর্শ চাহিতে লাগিলেন। ক্রমে ভক্তদের মুখে শ্রীমা ঐ কথা শুনিয়া বিধান দিলেন যে, “সরস্বতী পূজার পুর্বদিন দেবেন্দ্র বাবুদের গৃহদেবতা রাধাশ্যাম চাঁদজীর সম্মুখে যাথাবিধি প্রায়চিত্ত সমাপণান্তে গায়ত্রী ও যজ্ঞপবীত গ্রহন করিলেই পুনঃ ব্রাহ্মণত্বে প্রতিষ্ঠিত হইবেন। (সপ্তম সংস্করণ পৃষ্ঠা -২৬১)

    এখন দেখার বিষয় দুটো ঘটনাতেই হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার জন্য প্রায়চিত্ত করার বিধান দেয়া হয়েছে।শ্রী রামকৃষ্ণ যেহেতু হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার জন্য প্রায়চিত্ত করেন নাই এবং মুসলমান হয়েও মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মুর্তি পুজা করেছেন তাই তিনি একজন মুরতাদ মুসলমান হয়েই মৃত্যুবরন করেছেন তাই তিনি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী একজন মুসলিম বা মুরতাদ ।

    (সমস্ত তথ্য নেয়া হয়েছে শ্রী সুনিত দে লিখিত “শ্রী রামকৃষ্ণ কিছু অজানা প্রসঙ্গ গ্রন্থ, লীলাপ্রসঙ্গ, পৃষ্ঠা-৩১০, লিলামৃত পৃঃ-৭১,
    শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ চরিত- গুরুদাস বর্মন, পৃঃ-৮০,
    জীবন বৃতান্ত-রামচন্দ্র দত্ত পৃঃ-৫৪,
    রামকৃষ্ণ পুথি পৃঃ-১১৯ থেকে।)

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad